মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

মানবতার সেবায় এক নিবেদিত প্রাণ কবি আলী আশরাফ খান

মো: আবু তাহের নয়ন
  • Update Time : শুক্রবার, ১৩ মে, ২০২২
  • ১১৫ Time View

সমাজের আলোকিত কিছু মানুষ আছে বলে অন্ধকার সমাজকে আলোকিত করার স্বপ্ন দেখেন গুটি কয়েক মানুষ! তার মধ্যে বেশির ভাগই থাকে সেচ্চাসেবী সংগঠনের সদস্য । যাদেরকে অনেক বলে নিজের খেয়ে অন্যের কাজ করা বিনা বেতনে । আজ এমন একটি মানুষের কথা বলছি যিনি একাধারে কবি ও কলাম লেখক এবং সংগঠক ।  কেউ থাকে বলে আশরাফ ভাই কেউ বলে সংগঠক কিংবা কবি তবে তিনি পরিচিত সবার কাছে নিজেকে তুলে ধরেন, একজন আশরাফ ভাই  হিসেবে । কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার বেশ সংখ্যক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ,উপদেষ্টা কিংবা সহযোগী হিসেবে কাজ করে রিতিমত সমাজ বিশ্লেষকদের কাছে  পরিচিত পেয়েছেন সংগঠক কবি আলী আশারাফ খান । লেখা-লেখি শুরু অল্প বয়স থেকেই, খুব ছোট বেলা থেকেই তার প্রধান শখই ছিলো পত্রিকা,বই আর নানারকম গল্প পড়া ! কুমিল্লা জেলার নিরাপদ চিকিৎসা চাই এর সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন তিনি । পাশাপাশি তার হাত ধরে সামাজিক সংগঠন সৃষ্টির প্রতিষ্ঠা । তিনি ছিলেন এই সংগঠনের সাবেক সভাপতি। দাউদকান্দি -তিতাসের বেশকিছু সামাজিক সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন । বই পড়ার নেশায় আজও সে শান্ত । বই পড়া তার প্রধান নেশা ও পেশা ।

যার ফলে,এই বই প্রেমিক মানুষটির কাছে বই ছাড়া বড় উপহার কি হতে পারে তা তার কাছে জানা নেই । অবসর সময় কাটতো বই পড়ে । বইয়ের নেশায় কখনো মশা,মাছির উদ্রেপ তাকে একটুও বিশ্রামে রাখতে পারতোনা । প্রচণ্ড গরমে তার বই পড়া দেখে তখনকার তার বন্ধুরা বুঝতেন এই বুঝি তাকে বই পড়ার নেশার ধরেছে!

দেশ-বিদেশের সাংবাদিক,লেখক,বুদ্ধিজীবীদের লেখা পড়ার আগ্রহ ছিলো বেশি । দেশ-বিদেশের ইতিহাস,কবিতা,আর গল্প পড়া ছিলো রীতিমত তবে আন্তর্জাতিক ও দেশের আলোচিত খবর তার নজরে বাহিরে ছিলো না । প্রতিদিন কতটি পত্রিকা পড়তেন তার সংখ্যা শুনে অবাক হবেন । সময় পেলেই পত্রিকা পড়া যেন তার প্রধান খাদ্য হিসেবে তালিকায় ছিলো ।

ধর্মতত্ব,বাংলা সাহিত্য পড়ার নেশায় কখনো হারিয়ে যায় ছোট্রবেলার ঘরে । যেন একটু শিশু কিছু পড়ছে আর কিছু বুঝতে চেষ্টা করছে । এই যে জানার আগ্রহ ,জ্ঞান আহরণ করা যেন মৌমাছির কবিতার মতো করে । হাতের কাছে ব্যাগ ,ব্যাগ ভর্তি বই । এমন এক আজব মানুষকে দেখে দুর থেকেই চিনতে পারছেন তার ভক্তরা ! ওই ! তো ! কবি আলী আশরাফ খান ভাই !

 মৃষ্টিভাষী,হাস্য উজ্জল এই মানুষকে অনেকই চেনে আলী আশরাফ ভাই হিসেবে ! দরদী কণ্ঠে সালাম বিনিময় আর ভালোবাসায় মিশে থাকে দু’চোখে । কবিতার লেখার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে । প্রবন্ধ লেখা প্রকাশিত হয়েছে দেশের সব জাতীয় পত্রিকায় । বেশকিছুদিন হলো পবিত্র ওমরা হজ্জ পালন করেছেন তিনি । তিনি আসলে কি চান ! সমাজের আট -দশটা মানুষের মতো সাহিত্যচর্চা বা সামাজিক কাজ করে সিলিব্রিটি হতে ? না তিনি আসলে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন, তেমনটাই তার কাজে প্রমাণ পাচ্ছেন তার ভক্তরা । একটি অনুষ্ঠানে তিনি এই কথাটিই তার ভক্তদের বলেছেন !

একজন কবি হিসেবে তার দেশে বিদেশে ও সেচ্ছাসেবীদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে ।সামাজিক সংগঠনের ভালো কাজের উৎসাহে তিনি একজন অভিভাবক হিসেব দাঁড়িছেন সব সময় । তার লিখনীতে ফুটে উঠেছে সমাজের বাস্তবচিত্র ! সামাজিক আন্দোলনে সবার আগে সবার পাশে দাঁড়ানো একজন ব্যক্তির নাম সবার মুখে মুখে আর তিনি হলেন কবি আলী আশরাফ খান। ইভিটিং,যৌতুক,মাদক বিরোধিসহ সামাজিক যে কোন বিরোধিতে তিনি কাজ করছেন একজন সাহসী কবি হিসেবে । একজন সেচ্ছাসেবী হিসেবে তিনি মাঠে কাজ করেছেন সংগঠনের নিবেদিত হয়ে । সকাল থেকে দুপুর ,দুপুর থেকে সন্ধ্যা তাকে দেখা যেতো মাইকিং হাতে নিয়ে সাধারণ পথচারিতে সচেতন করতেন রাস্তা পারাপারে,মাদককে না বলুন জনসচেতনামূলক কাজে । গৌরীপুর বাজারকে জ্যাম নিরষণে তার রয়েছে যতেষ্ট অবদান । তার হাত ধরে শিখতে শুরু করেছে আজকের তরুণ প্রজন্ম সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কিভাবে ভালো কাজ করতে হয় । কিভাবে দেশের জন্য কাজ করে ভালোবাসা আদায় করা যায় তথাপী ভালো কাজের সবার আগে সবার পাশে ! সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে একজন পরিচিত মুখ আলী আশরাফ খান দেশে বিদেশে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। আপাদমস্তক সেচ্ছাসেবী হিসেবে আলী আশরাফ খান লেখা-লেখির পাশাপাশি জয় করে ফেলেছেন সাধারণ মানুষের মনও।তার স্বরচিত কবিতার সংখ্যা হাজারের বেশি,সামাজিক কাজে ও লেখক হিসেব অবদানস্বরুপ পুরুস্কার পেয়েছে সরকারী ও বে-সরকারী একাধিক । ভ্রমণ করেছে দেশ-বিদেশে ।তিনি এই বয়সেও ক্লান্ত হননি প্রবন্ধ ও কবিতা লেখাতে । দেশের জাতীয় সব পত্রিকায় তার প্রবন্ধ ছাঁপা হলে পাঠকমহলে সাঁড়া পড়ে যায় । পাঠকের মনের ভাষায় তার কলমের কালিতে ফুটে উঠে সমাজ ও রাষ্ট্রের বাস্তবচিত্র !

তিনি তপ্ত সমাজের বুকে চাষাবাদ করছেন সেচ্ছাসেবী হিসেবে । সাংগঠনিক কাজে চষে বেড়াচ্ছেন এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলা কখনো পাড়ি দিচ্ছেন শত মাইল। যৌতুক,ই্ভটিজিং,মাদক বিরোধি আন্দোলন,নিরাপদ সড়ক চাই ,নিরাপদ চিকিৎসা চাইসহ সামাজিক সকল আন্দোলনে একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করছেন অকাতরে।  যার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আজ বৃহত্তর দাউদকান্দিতে গড়ে উঠেছে তরুণ সমাজের মাঝে সামাজিক বিপ্লব। উদার চিত্তে নিজের ও দাতাসদস্যদের দেয়া তহবিল খরচ করেন সাধারণ মানুষের পাশে । যে কারণে কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার দূর্গম এলাকাতেও আজ ধ্বনিত হচ্ছে সেচ্ছাসেবীদের প্রতিধ্বনি।  কেউ কেউ তাকে সমালোচনা করে তার অজ্ঞতা বশত । তবে অবোধ নিন্দুকদের বুঝা উচিত আলী আশারাফ খান একদিনেই সৃষ্টি হয়নি। তাদের বুঝা উচিত আলী আশরাফ খান ধ্বংস করা সহজ হলেও তৈরী করাটা অতটা সহজ নয়।

কিন্তু মনে রাখা উচিত, সামাজিক সংগঠনের যে কোন কাজ নিয়ে অভ্যান্তরীণ মতবিরোধ থাকতেই পাড়ে। সকল যোগ্যদের সব সময় সমান ভাবে মুল্যায়ন করা যায় না। সময়ের প্রয়োজনে বৃহত্তর স্বার্থের জন্য মতপার্থক্য ভুলে নিতে হয় ঐক্যবদ্ধভাবে।  একজন ক্ষুদ্রতম লেখক হিসেবে খুব কাছ থেকে দেখেছি আলী আশরাফ খান সৎ বিনয়ী ও সামাজিক সংগঠনের এক নিবেদিত প্রাণ হিসেবেই তিনি সর্বমহলে পরিচিত।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Suchana Community TV
themebazsuchana231231