রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন

পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন মতিন সৈকত

আলমগীর হোসেন
  • Update Time : সোমবার, ৬ জুন, ২০২২
  • ৩৬ Time View

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আদমপুরের মতিন সৈকত ২০২১ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাক্তিগত ক্যাটাগরিতে দেশ সেরা একক ব্যাক্তি নির্বাচিত হয়েছেন। ৫ জুন রবিবার আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সন্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালিভাবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করেন। এসময় মতিন সৈকতের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী’র পক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ সাহাব উদ্দিন এমপি, উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার এমপি, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মতিন সৈকত-কে তার অসাধারণ অবদানের জন্য তিনবার জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করেন। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ব্যাবহার এবং সম্প্রসারণের জন্য ২০১০ এবং ২০১৭ সালে দুইবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রদান করেন। মতিন সৈকত ১৯৮৭ সালে সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ -এর লেখা অভিনন্দন পত্র পান। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে তিনি ছয় বার সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে শীর্ষস্থান অর্জন করেন। মতিন সৈকত রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত কৃষি,পরিবেশ, সামাজ উন্নয়ন সংগঠক। বহুমুখী সৃজনশীল উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা। মতিন সৈকত তিন দশকের বেশি সময় ধরে কৃষি পরিবেশ সমাজ উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলা সাহিত্যে সন্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে স্থায়ীভাবে গ্রামে বসবাস করেন। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনার পাশাপাশি কৃষি, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষমুক্ত ফসল, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, খাল-নদী পূনঃখনন, জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণে কাজ করেন। শহর-নগরের বর্জ্য -ময়লা-আবর্জনা থেকে সিটিজেন ফার্টিলাইজার বা নাগরিক সার রুপান্তরের জন্য সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে নতুন রাস্তা, বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গণশেয়ারের মাধ্যমে সমাজ ভিত্তিক এক ফসলি বোরোধানের আবাদ সঠিক রেখে প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষ সম্প্রসারণে অবদান রেখে সমবায়ের মাধ্যমে জনগণের সম্পৃক্ততায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সৃষ্টি করেন। মতিন সৈকত ২০০০ সাল থেকে বিষমুক্ত সবজি নিরাপদ ফসল উৎপাদন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রত্যেক বছর ফসলের মৌসুমে ঢোল পিটিয়ে, মাইকিং করে কৃষককে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে আগ্রহী করে তুলছেন। মতিন সৈকত দেশব্যাপী পরিবেশ আন্দোলন, জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, খাল-নদী পূনঃখনন আন্দোলন, পলিথিন প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে জন-সচেতনতা সৃষ্টি করছেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, পাখি উদ্ধার এবং অবমুক্তি নিয়ে সংগ্রাম করছেন। তার উদ্ধার এবং অবমুক্তকৃত পাখির সংখ্যা ১৫০০’র বেশি। বোরোধান উৎপাদন করতে মৌসুমব্যাপী সারাদেশে সেচের পানির জন্য সেচ প্রকল্পের মালিককে বিঘাপ্রতি ১০০০থেকে ২০০০ টাকা সেচের খরচ দিতে হয়। মতিন সৈকত ১৯৯৭ সাল থেকে আদমপুর, পুটিয়া ও সিঙ্গুলা তিন গ্রামের মধ্যবর্তী আপুসি বোরোধানের প্রকল্পে ধান লাগানো থেকে পাকা ধান কাটা পর্যন্ত ২৭ বছর যাবত যার যতোবার সেচের পানি প্রয়োজন ততোবারই সেচের পানি এককালীন মাত্র দুইশ টাকার বিনিময়ে বিঘাপ্রতি মৌসুমব্যাপি সরবরাহ করে ধান উৎপাদনে সহযোগিতা করে জাতীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Suchana Community TV
themebazsuchana231231