বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

তালেবান সরকারকে স্বাগত জানাল চীন তবে উদ্বেগ পশ্চিমাদের

সূচনা ডেস্ক :
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৭৮ Time View

আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে তালেবান। এই সরকারকে নিয়ে নানামুখী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। কাবুল দখলের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মঙ্গলবার মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে প্রধানমন্ত্রী করে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে গোষ্ঠীটি। আলোচিত নেতা আবদুল গানি বারাদার হচ্ছেন তার উপপ্রধানমন্ত্রী। ঘোষণা হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ৩৩টি পদেই রয়েছেন তালেবান ও তার সহযোগী গোষ্ঠীর সদস্যরা। যাদের অনেকের নাম রয়েছে জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায়, রয়েছেন ওয়াশিংটনের নজরে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ব্যক্তি। এর পরই তালেবানের নতুন সরকার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। খবর : আলজাজিরা, বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, তোলোনিউজ ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।


যুক্তরাষ্ট্র : আফগানিস্তানের নতুন সরকার নিয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ তালেবানের এ সরকারের পদস্থ ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় জড়িত ছিল। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তালেবান সরকারে কিছু ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের অতীত ইতিহাস নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ গোষ্ঠীকে কথা নয়, কাজ দিয়ে বিচার করা হবে। আফগান মাটি অন্য কোনো দেশকে হুমকি দিতে ব্যবহার করা হবে না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তালেবান সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া সিরাজউদ্দিন হাক্কানি যুক্তরাষ্ট্রের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় অবস্থান করছেন। যার মাথার দাম কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে নেবে উল্লেখ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, বহুদিন ধরে অস্থিতিশীলতা চলায় আফগানিস্তানে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সেবার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সঙ্কটগুলো মোকাবেলায় বাংলাদেশ সহায়তা দেবে কি না তা জানতে চেয়েছে জাতিসঙ্ঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আমরা এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতি সম্প্রতি আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত তালেবান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার কতটা বাস্তবায়ন করতে পারছে, এর ওপর আমরা গভীর নজর রাখব। কেননা বাংলাদেশের কিছু নীতিগত ও আদর্শিক অবস্থান রয়েছে। এগুলোর সাথে আমরা সমঝোতা করব না। তাই আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি। আমরা স্থায়ী সরকারের জন্য অপেক্ষা করব। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারটি অন্তর্বর্তীকালীন, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে বলে তালেবান নেতারা জানিয়েছিলেন। সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখনো চলছে। এতে নারীদের অংশগ্রহণ থাকছে কি না তা দেখার বিষয়। তবে আমাদের লক্ষ্য এখন আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে নিবদ্ধ। আমরা চাই আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে চলা সঙ্ঘাত থেমে যাক, বাংলাদেশীসহ যেসব বিদেশী নাগরিক এখনো সেখানে রয়েছেন, তারা যেন নিরাপদে থাকেন। আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক সঙ্ঘাত শুরুর পর থেকে বাংলাদেশীদের একটি বড় অংশকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, এখনো ১০ জন বাংলাদেশী সেখানে আছেন। এর মধ্যে তিনজন এনজিও কর্মী। বাকি সাতজন নিজ ইচ্ছায় সেখানে থেকে যেতে চান। তারা হয়ত সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যেই আছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চরমপস্থী বা সন্ত্রাসবাদীদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ থাকে। গত মাসে আমরা একটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক কাবুল বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা হামলা প্রত্যক্ষ করেছি, যাতে ব্যাপক হতাহত হয়েছে। ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশের অনেক মানুষ তালেবানের সাথে আদর্শিক মিল খুঁজে পেতে পারেন। তাই এটা সরকারের জন্য একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। কেননা তালেবানের আদর্শে অনুপ্রাণিত কোনো বাংলাদেশী যাতে ভুল পথে পরিচালিত না হন, সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনি বলেন, তালেবানের সাথে বাংলাদেশের কোনো গোষ্ঠী বা রোহিঙ্গাদের সরাসরি যোগাযোগ হয় কি না, সে ব্যাপারে আমরা উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনীগুলো সজাগ রয়েছে। এ পর্যন্ত বাহিনীগুলো সফলতার সাথেই কাজ করেছে।


শাহরিয়ার আলম বলেন, তালেবান এক সময় অনেক দেশেই নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর এসব দেশ আগ্রহ নিয়ে সামনে এগিয়ে আসছে। আগের শাসনামলের চেয়ে পরিবর্তন নিয়ে তালেবান নেতাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি মাঠপর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে তা আমাদের দেখতে হবে। তাই এ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে কোনো উপসংহারে পৌঁছতে চাই না।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Suchana Community TV
themebazsuchana231231