রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন

কুমিল্লায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২
  • ৩১ Time View

আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো/তবু আমারে দেবো না ভুলিতে…। ’ কাজী নজরুল ইসলামের এই চয়নটুকু চিরভাস্বর হয়ে আছে কুমিল্লাবাসীর হৃদয়ে। কুমিল্লার মাটি ও মানুষের সঙ্গে নজরুলের রয়েছে অটুট বন্ধন। বাংলা সাহিত্যের ‘ধুমকেতু’ কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রেম-বিরহ, বিবাহ, সংগীত-সাহিত্য চর্চা ও ইংরেজ বিরোধী সংগ্রামের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে শিক্ষা ও সাহিত্যের পাদপিঠ কুমিল্লার সঙ্গে। মানবতা, সাম্য ও বিদ্রোহের কবি নজরুলের জীবন ও সাহিত্য কর্মের বিরাট অধ্যায়জুড়ে আছে কুমিল্লা। কুমিল্লার বিভিন্ন পরিমণ্ডলে নজরুলের ছিল অবাধ পদচারণা।

কুমিল্লায় নজরুলের আগমন
১৯২১ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম কুমিল্লায় আসেন কবি নজরুল। সে যাত্রায় মুরাদনগরের দৌলতপুর অবস্থান করেন তিন মাস। দ্বিতীয়বার ১৯২১ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর, তৃতীয়বার ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন, চতুর্থবার ১৯২২ সালের অক্টোবর থেকে ২৩ নভেম্বর এবং পঞ্চমবার ১৯২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে চলে যাওয়ার তারিখ অজ্ঞাত পর্যন্ত। অর্থাৎ তিনি কুমিল্লায় এসেছিলেন মোট পাঁচবার। সব মিলিয়ে থেকেছেন প্রায় ১১ মাস। নজরুলের দাম্পত্য জীবনের বন্ধনও ঘটেছিল কুমিল্লায়। দুই মহীয়সী নারীর পাণিগ্রহন করে কুমিল্লার সঙ্গে তার ঘটেছিল চিরায়ত নারীর সংযোগও।

কুমিল্লায় প্রেমিক নজরুল
নজরুলের যৌবনের কিছু উজ্জ্বল সময় সময় কেটেছে মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুরে। বিদ্রোহী কবি দৌলতপুরে এসে হয়ে গেলেন প্রেমের কবি। এক নারী কবির জীবনের গতিপথও বদলে দিলো। কবি নিজেই বলেছেনÑ ‘এক অচেনা পল্লী বালিকার কাছে/ এত বিব্রত আর অসাবধান হয়ে পড়েছি,/ যা কোন নারীর কাছে হয়নি। …’

এ বালিকাটি আর কেউ নন, তিনি মুরাদনগরের বাঙ্গরা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মুন্সী বাড়ির আবদুল খালেক মুন্সীর মেয়ে সৈয়দা খাতুন। আদর করে কবি তাকে ডাকতেন নার্গিস।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন নজরুল। সে যুদ্ধে ক্যাপ্টেন আলী আকবর খাঁর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং হƒদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আলী আকবর নজরুলের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে কুমিল্লায় নিজের গ্রামের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। ১৯২১ সালের ৩ এপ্রিল নজরুল কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম মেইলে করে আলী আকবর খাঁ’র সঙ্গে রাতে কুমিল্লায় আসেন। ট্রেনে বসে তিনি রচনা করেন ‘নীলপরী’ কবিতাটি। ওই রাতে নজরুল কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ে তার সহপাঠী বন্ধু বীরেন্দ্র কুমার সেনের বাড়িতে ওঠেন। বীরেন্দ্রের মা বিজয়া সুন্দরীদেবীকে নজরুল মা বলে সম্বোধন করতেন।

নার্গিসের প্রেমে মগ্ন নজরুল
কান্দিরপাড়ে দু’দিন বেড়ানোর পর ৬ এপ্রিল আলী আকবর খাঁ নজরুলকে নিয়ে মুরাদনগরের বাঙ্গরা ইউনিয়নের দৌলতপুরে আসেন। বর্তমানে যেখানে আলী আকবর মেমোরিয়াল ট্রাস্টের বিল্ডিংটি অবস্থিত। এখানে আরেকটি ঘর ছিল, এ ঘরেই নজরুলকে থাকতে দেওয়া হয়। এ ঘরটি ৪৫ হাত দৈর্ঘ্য ও ১৫ হাত প্রস্থ ছিল। বাঁশের তৈরি আটচালা ঘরটির একেবারে পূর্ব পাশে নজরুল থাকতেন। এই বাড়িতে থাকার সুবাদে আলী আকবর খাঁর ভাগ্নি পাশের বাড়ির সৈয়দা নার্গিস আশার খানম এর সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয় এবং দু’জনে গভীর প্রেমে মগ্ন হন।

দৌলতপুরের এই বাড়িতে দু’টি বড় আম গাছ নজরুলের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। নজরুল একটি আমগাছের তলায় দুপুরে শীতল পার্টিতে বসে কবিতা ও গান রচনা করতেন। এই আমগাছের পাশেই ছিল কামরাঙ্গা, কামিনী, কাঠাঁল গাছের সারি। এখানে কবি খাঁ বাড়ির ও গ্রামের ছেলে মেয়েদের নাচ, গান, বাদ্য শেখাতেন।

পুকুরের দক্ষিণপাড়ে অবস্থিত আম গাছটির নিচে বসে নজরুল বাঁশি বাজাতেন। যদিও সে গাছটি আর নেই। কয়েক বছর আগে গাছটি মারা গেছে। গাছের গোড়াটি পাকা করে রাখা হয়েছে। আম গাছের সামনে রয়েছে একটি শান বাঁধানো ঘাট। এই আমগাছের পাশ্বর্বতী পুকুরেই নজরুল ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাঁতার কাটতেন। একবার পুকুরে নামলে উঠবার নামও নিতেন না। নজরুল সাবানের পর সাবান মেখে পুকুরের পানি সাদা করে ছোট শিশুদের নিয়ে লাই খেলতেন, ডুব দিয়ে তাদের কলের গান শোনাতেন। পুকুরের পশ্চিমপাড়ে একটি আম গাছ আছে। এ আম গাছের তলায় এসে কবির মা (কবি আলী আকবর খাঁর নিঃসন্তান বোন ইফতেখারুন্নেছাকে মা ডাকতেন নজরুল) খাবার নিয়ে এসে ডাকতেন ‘আয় নুরু, খেতে আয়!’ তখন কবি ভদ্র ছেলের মত গোসল সেরে বাড়িতে এসে ভাত খেতেন। কবি শখ করে জাল কিংবা পালা দিয়ে পুকুরে মাছ ধরতেন। আমতলায় রাত দুপুরে মনভুলালো উদাস সুরে বাশিঁ বাজাতেন। পাপড়ি খোলা কবিতাটি এই গাছতলায় রচনা করেন নজরুল।

কবির অবস্থানকালে খাঁ বাড়িতে ১২টি কামরাঙ্গা গাছ ছিল, এখন আছে ২টি । কবির শয়নকক্ষের সংলগ্ন ছিল একটি প্রাচীন কামরাঙ্গা গাছ যা তার অনেক কবিতা গানে, হাসি-কান্না, মান অভিমান এবং মিলন বিরহের নীরব ‍সাক্ষী।

এ গাছকে নিয়েই কবি লিখেছেন- ‘কামরাঙ্গা রঙ্গ লোকের পীড়ন থাকে/ঐ সুখের স্মরণ চিবুক তোমার বুকের/ তোমার মান জামরুলের রস ফেটে পড়ে/হায় কে দেবে দাম। …’

কবি মাঝে মধ্যে বিশেষ করে দুপুরে এই গাছটির শীতল ছায়ায় বসে আপন মনে গান গাইতেন, গান রচনা করতেন। একটি কামরাঙ্গা গাছে একটি ফলকও লাগানো রয়েছে।

কবি এবং আলী আকবর খাঁ যখন বিকেল বেলায় একসঙ্গে গাছের ছায়ায় বসে শীতলপাটি বিছিয়ে কবিতা ও গান রচনা করতেন, রুপসী নার্গিস তখন নানা কাজের ছলে ছুটে আসতেন এই গাছের নিচে। কবি ও কবি প্রিয়ার চোখের ভাষায় ভাবময় করে তুলতেন তাদের হৃদয় লোকের কামরাঙ্গা গাছটিকে। খাঁ বাড়ির পাশেই মুন্সী বাড়ি। নার্গিস এ বাড়ির আবদুল খালেক মুন্সীর মেয়ে। বাল্যকালে নার্গিসের বাবা-মা মারা গেছেন। নার্গিস অধিকাংশ সময় মামার বাড়িতে থাকতেন।

নজরুলের কবিতায় দৌলতপুরের আটি গাঙের কথা এসেছে। তবে সেই আটি এখন খালে পরিণত হয়েছে। আটি নদীতে নজরুল সাঁতার কেটেছেন। গোমতীতে নিয়মিত সাঁতার কাটার কোন সংবাদ পাওয়া না গেলেও গোমতীকে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাই তো তার কবিতায় এসেছে- ‘আজো মধুর বাঁশরী বাজে/গোমতীর তীরে পাতার কুটিরে/আজো সে পথ চাহে সাঁঝে। ’

দৌলতপুরে অবস্থানকালে ১৬০টি গান ও ১২০টি কবিতা লেখেন নজরুল
দৌলতপুরে ৭৩ দিন অবস্থানকালে নজরুল ১৬০টি গান ও ১২০টি কবিতা। এখানকার রচনা নজরুলকে প্রেমিক কবি হিসেবে পাঠক দরবারে পরিচিত করেছে।

নার্গিসের সঙ্গে বিয়ে, বাসর রাতেই অভিমানী নজরুলের দৌলতপুর ত্যাগ
দৌলতপুর থাকাকালে নজরুল যেসব গান আর কবিতা লিখেছেন, এসব গান ও কবিতার বিষয়জুড়ে ছিলেন শুধুই নার্গিস। ১৯২১ সালের ১৮ জুন (বাংলা ১৩২৮ সালের ৩ আষাঢ়) নজরুল-নার্গিসের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বাসর রাতে কবি নার্গিসকে একটি কবিতা উপহার দেন। কিন্তু বিয়ের রাতেই কোনো কারণে অভিমান করে বাসর ঘর থেকে নজরুল বের হয়ে যান। নার্গিসকে একা ফেলে ওই রাতেই নজরুল অঝোর বৃষ্টি উপেক্ষা করে ১১ মাইল পথ পায়ে হেঁটে মুরাদনগরের দৌলতপুর ত্যাগ করে কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ে আসেন। এরপর তিনি কখনও দৌলতপুরে ফিরে যাননি। দৌলতপুরে কবির চারটি স্মৃতিফলক রয়েছে।

কান্দিরপাড়ে বসে মামা শ্বশুরকে নজরুলের চিঠি
কান্দিরপাড়ে বসে নজরুল তার মামা শ্বশুর আলী আকবর খাঁনকে চিঠি লেখেন। চিঠিতে বলেন, ‘আপনাদের এই অসুর জামাই পশুর মতন ব্যবহার করে এসে যা কিছু কসুর করেছে তা সকলে ক্ষমা করবেন। এইটুকু মনে রাখবেন, আমার অন্তর-দেবতা নেহায়েৎ অসহ্য না হয়ে পড়লে আমি কখনও কাউকে ব্যথা দিই না। আমি সাধ করে পথের ভিখারী সেজেছি বলে লোকের পদাঘাত সইবার মতন ক্ষুদ্র আত্মা অমানুষ হয়ে যাইনি। আপনজনের কাছ থেকে পাওয়া অপ্রত্যাশিত এত হীন ঘৃণা অবহেলা আমার বুক ভেঙে দিয়েছে’।

নজরুলের অতিসংবেদনশীল মনের পরিচয় পত্রাংশে পাওয়া গেলেও কেন তার মন ভেঙে যায় এটি উল্লেখ করা হয়নি পত্রের কোথাও। কান্দিরপাড়ে কিছু দিন থেকে নজরুল ৮ জুলাই বিকেলে কুমিল্লা ত্যাগ করে কলকাতা চলে যান।

বিচ্ছেদের পরও নার্গিসকে ভুলতে পারেননি নজরুল
নার্গিসের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটলেও নজরুল তার প্রথম পত্মীতে বিস্মৃত হননি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ১৯৩৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নজরুলের লেখা দীর্ঘ চিঠিখানা তা-ই প্রমাণ করে। তার প্রিয়তমাকে নজরুল চিঠিটিতে লিখেন- ‘আমার অন্তর্যামী জানেন, তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কি গভীর ক্ষত, কি অসীম বেদনা! কিন্তু সে বেদনার আগুনে আমিই পুড়েছি-তা দিয়ে তোমায় কোনদিন দগ্ধ করতে চাইনি। তুমি এই আগুনের পরশ মানিক না দিলে আমি ‘অগ্নিবীণা’ বাজাতে পারতামনা-আমি ‘ধুমকেতু’র বিস্ময় নিয়ে উদিত হতে পারতাম না। ’

চক্রবাক কাব্যের অনেক কবিতাও এ নারীকে উদ্দেশ্য করে লেখা। কান্দিরপাড়ে থাকাকালে নজরুল তার প্রেম নিবেদনের জন্য বহুল আলোচিত কবিতা বিজয়িনী লেখেন- ‘হে মোর রানী ! তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে আমার বিজয় কেতন লুটায় তোমার চরণতলে এসে, আমার সমরজয়ী অমর তরবারী ক্লান্তি আনে দিনে দিনে হয়ে ওঠে ভারী’।

নজরুলের দ্বিতীয় বিয়ে প্রমীলার সঙ্গে
১৯২৪ সালের ২৫ এপ্রিল কলকাতার ৬ নং হাজী লেনে নজরুলের সঙ্গে কুমিল্লার কান্দিরপাড় এলাকার মেয়ে আশালতা সেনগুপ্তা প্রমীলার বিয়ে হয়। প্রমীলাকে নিয়েই কেটেছিল নজরুলের দাম্পত্য জীবন। তবে কবির এ বিয়ে তৎকালীন কুমিল্লার হিন্দু সমাজ মেনে নিতে পারেনি। সেনগুপ্ত পরিবার এবং মাতৃসদৃশ শ্রীযুক্তা বিরজাসুন্দরী দেবী পর্যন্ত অখুশী হন।

কুমিল্লায় নজরুলের সাহিত্যচর্চা
কুমিল্লায় নজরুলের লেখার মধ্যে রয়েছে- পরণ-পূজা, মনের মানুষ, প্রিয়ার রূপ, শায়ক বেধা পাখী, প্রলয়োল্লাস, মরণ বরণ, বন্দীর বন্দনা, পাগলা পথিক, বিজয়গান, পূজারিণী, বিজয়িনী, নিশীথ প্রতিম, চিরচেনা, মনের মানুষ, স্তব্ধ বাদল, কবিতা- গোমতী, জাগরণী, খুকী ও কাঠবিড়ালী ইত্যাদি।

কুমিল্লায় সংগ্রামী নজরুল
১৯২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর চতুর্থবার নজরুল কুমিল্লায় এসেছিলেন আত্মগোপনের জন্য। ধূমকেতু পত্রিকায় ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ শীর্ষক একটি কবিতা প্রকাশের পর তিনি নিরুদ্দেশ হন। এ জন্য কবির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। ১৯২২ সালের ২০ নভেম্বর কুমিল্লার শহরের ঝাউতলা রাস্তা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেদিন রাতেই নজরুলকে কলকাতা স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ এক বছর কারাভোগের পর মুক্ত হয়ে নজরুল সোজা কুমিল্লায় এসে প্রমীলাকে বিয়ে করেন।

কুমিল্লা নগরীজুড়ে নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন
নজরুল কুমিল্লায় থাকাকালে শহরের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া কলেজ সংলগ্ন রানীর দিঘীর পশ্চিমপাড়ে কৃষ্ণ চূড়া গাছের নিচে বসে প্রতিদিন কলেজ পড়ুয়া তরুণদের নিয়ে কবিতা-গানের আসর জমাতেন, আড্ডা দিতেন। বর্তমানে স্থানটিতে একটি স্মৃতিফলক রয়েছে। এই স্থানেই বসে অনেক গান ও প্রমিলার কাছে চিঠি লিখেছেন। ধর্ম সাগরের পশ্চিমপাড়ে বসেও নজরুল গান ও কবিতা লিখতেন।

দ্বিতীয় বিয়ের পর নজরুল কুমিল্লায় এসে প্রতিবারই উঠতেন কান্দিরপাড়ে ইন্দ্র কুমার সেন গুপ্ত অর্থাৎ প্রমীলাদের বাড়িতে। কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় থেকে ধর্মপুর অ্যাপ্রোচ রেলস্টেশন সড়কটি নজরুলের নামে নামকরণ করে রাখা হয় নজরুল অ্যাভিনিউ। ১৯৬২ সালে মরহুম আব্দুল কুদ্দুস সড়কটিকে নজরুল অ্যাভিনিউ করার প্রস্তাব দিলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ তাতে সম্মতি দেন এবং সড়কটির নামকরণ করা হয়। প্রমীলাদের বাড়ির পাশেই ছিলো বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা বসন্ত কুমার মজুমদারের বাড়ি। কবির সঙ্গে পরিচয় হয় বাগিচাগাঁওয়ের বিপ্লবী অতীন রায়ের। এ সড়ক সংলগ্ন বসন্ত স্মৃতি পাঠাগারে কবি আড্ডা দিতেন, কবিতা লিখতেন, এখানেও রয়েছে নজরুল ফলক ।

১৯২১ সালের ২১ নভেম্বর রাজগঞ্জ বাজারে নজরুল ব্রিটিশবিরোধী মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন, সেখানকার স্মৃতিবিজড়িত ফলকটি এখন আর নেই। কবি নজরুল কুমিল্লায় অবস্থান কালে বেশ কয়েকবার দারোগা বাড়ির মাজারের পার্শ্ববর্তী এই বাড়ির সঙ্গীত জলসায় অংশ নিয়েছিলেন। টাউন হল ময়দানে অনেক সমাবেশ, অনেক জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

শহরের মহেশাঙ্গনও নজরুল স্মৃতিবিজড়িত। ওইসময় স্বদেশী আন্দোলনের যুগ। প্রতিদিন সভা-সমাবেশ লেগেই থাকতো মহেশাঙ্গনে। এখানে অনেক সমাবেশে ভক্তদের অনুরোধে গানে অংশ নিয়েছেন বিদ্রোহী কবি। ‘আলো জ্বালা আলো জ্বালা’ প্রভৃতি গান গেয়েছেন।

শহরের মুরাদপুর চৌমুহনীর কাছেই ইতিহাসখ্যাত জানুমিয়ার বাড়ি। এই বাড়িতে উপমহাদেশের অনেক প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী গানের আসর জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, শচীন দেব বর্মণ ও কাজী নজরুল ইসলাম।

শহরের ২য় মুরাদপুর মুরগীর খামার অফিসের পেছনে মহারাজ কুমার নবদ্বীপ চন্দ্র দেব বর্মন বাহাদুরের রাজবাড়িতে নজরুল সঙ্গীত চর্চা করতেন শচীন দেব বর্মণের সঙ্গে বসে। তাছাড়া নানুয়ার দিঘীরপাড়ের সুলতান মাহমুদ মজুমদারের বাড়ি, নবাববাড়ি, কান্দিরপাড়ের নজরুলের ম্মৃতিচিহ্ন ফলকগুলোও অযত্নে,অবহেলায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।

নার্গিসের সঙ্গে বিয়ের রাতেই নজরুল অজ্ঞাত কারণে মুরাদনগরের দৌলতপুর ছেড়ে চলে গেলেও রেখে গেছেন অনেক স্মৃতিচিহ্ন। সেই সব স্মৃতিময় গাছ, ঘাট, বাসর ঘর, খাট প্রভৃতির সৌন্দর্য মলিন হতে বসেছে। যে আম গাছের নিচে বসে কবি বাঁশি বাজাতেন সেটি মরে গেছে। আলী আকবর খাঁন মেমোরিয়াল ভবনটিও ধ্বংসের শেষ প্রান্তে । লেখা সংগ্রহ: banglanews24.com

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Suchana Community TV
themebazsuchana231231