মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

আশ্রয়ণের ঘর ভেঙেছে কিছু লোক হাতুড়ি-শাবল দিয়ে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: মো: আবু তাহের নয়ন
  • Update Time : শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১০২ Time View

মুজিববর্ষে উপহার হিসেবে দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর কারা হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভেঙে মিডিয়ায় প্রচার করেছে, সেই তালিকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, সব থেকে দুর্ভাগ্য হলো আমি যখন সিদ্ধান্ত নিলাম, প্রত্যেকটা মানুষকে আমরা ঘর করে দেব, আমাদের দেশের কিছু মানুষ এত জঘন্য চরিত্রের, আমি কয়েকটা জায়গায় হঠাৎ দেখলাম যে কিছু ঘর ভেঙে পড়ছে, কোনো জায়গায় ভাঙা ছবি। এগুলো দেখার পর পুরো সার্ভে করালাম কোথায় কী হচ্ছে। আমরা প্রায় দেড় লাখের মতো ঘর তৈরি করে দিয়েছি। ৩শটা ঘর বিভিন্ন এলাকায় কিছু মানুষ হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভেঙে তারপর মিডিয়ায় সেগুলোর ছবি তুলে দিয়েছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত তার পুরো রিপোর্ট আমার কাছে আছে।

তিনি বলেন, গরিবের জন্য ঘর করে দিচ্ছি, সেই ঘর এভাবে যে ভাঙতে পারে; ছবিগুলো দেখলে দেখা যায়। আর যেসব মিডিয়া এগুলো ধারণ করে আবার প্রচার করে সেটা কীভাবে হলো, সেটা কিন্তু তারা করছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক জায়গায় যেমন ৬শ ঘর করা হয়েছে সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাতে মাটি ধসে কয়েকটা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর ৯টা জায়গায় আমরা পেয়েছিলাম যেখানে কিছুটা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটা মাত্র ৯টা জায়গায় কিন্তু অন্যত্র আমি দেখেছি যে, প্রত্যেকেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, তার সরকারের ইউএনও এবং ডিসিসহ সরকারি কর্মচারীদের ওপর এগুলোর তদারকির দায়িত্ব ছিল। যাদের অনেকেই এগিয়ে এসেছেন এই ঘর তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য। অনেক অল্প পয়সায় ইট সরবরাহ করেছেন। এভাবে সবার সহযোগিতা এবং আন্তরিকতাই বেশি।

শেখ হাসিনা বলেন, যখন এটা গরিবের ঘর তখন এখানে হাত দেয় কীভাবে! যা হোক আমরা সেগুলো মোকাবিলা করেছি। তবে আমাদের নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সামনে রেখে দলকে তৃণমূল পর্যায় থেকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আসছে, কাজেই দলকে আরও শক্তিশালী করে তোলার বিষয়ে আমাদের মনযোগী হতে হবে।’

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের নেতাকর্মীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারিতে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেভাবে আর কোনো রাজনৈতিক দলকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখিনি। এ নিয়ে অন্য দলগুলোর কোনো আগ্রহ ছিল না। তাদের কাজই ছিল প্রতিদিন টেলিভিশনে বক্তৃতা বা বিবৃতি দেওয়া এবং আওয়ামী লীগের সমালোচনা করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মহামারিতে সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। তবে সরকারের একার পক্ষে এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব ছিল না। আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে এই কারণে যে, আমাদের একটা শক্তিশালী সংগঠন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জানি এ কথা কেউ হয়তো বলবেও না, লিখবেও না, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এককভাবে শুধু সরকারি লোক দিয়ে সবকিছু করা সম্ভব হয় না। তারাও করেছে খুব আন্তরিকতার সঙ্গে। আমাদের প্রশাসনে যে যেখানে ছিল বা পুলিশ বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, বিডিআর, আনসার প্রত্যেকে এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মীরা।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রথমদিকে একটু ভীতি ছিল। কিন্তু সরকারের প্রণোদনা এবং উৎসাহে তারা কাজ করতে পেরেছেন।

সরকারপ্রধান বলেন, হাজার হাজার ডাক্তার এবং নার্স আমরা নিয়োগ দিয়ে চেষ্টা করেছি করোনা মোকাবিলা করার জন্য। আবার ভ্যাকসিন কেনার ব্যাপারে আমরা সবার আগে উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের বিপদ হয়ে গিয়েছিল যে, ভারতে এত ব্যাপক হারে করোনা দেখা দিল যে, চুক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা ভ্যাকসিন সাপ্লাই দিতে পারছিল না। তারপরও আমরা পৃথিবীর যেখান থেকে পেরেছি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছি এবং এখন আর সমস্যা হবে না। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা মানুষের কোনো কাজের সুযোগ ছিল না, ঘরে বন্দি, খাবারের অভাব। সেই সময় আমাদের নেতাকর্মীরা প্রত্যেকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে।

মহামারিকালে দলের বহু নেতাকর্মীর মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, কত মানুষকে যে আমরা হারালাম। এমন কোনোদিন নেই যে, মৃত্যু সংবাদ না আসত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বলেই দেশের উন্নতি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বলেই করোনা মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে। আওয়ামী লীগ আছে বলেই মানুষ অন্ত্যত সেবা পাচ্ছে। যারা আমাদের সমালোচনা করেন তাদের শুধু বলব যে, ’অতীতে আমাদের দেশে কী অবস্থা ছিল? ’৭৫-এর পর থেকে ’৯৬ পর্যন্ত কী অবস্থাটা ছিল, সেটা যেন তারা একটু উপলব্ধি করেন। তবে কিছু ভাড়াটে লোক রয়েছে সারাক্ষণ তারা মাইক লাগিয়ে বলতেই থাকবে। তবে যে যাই বলুক আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে এবং আমরা সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই চলি। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ২০২১ সালে বাংলাদেশকে আমরা এই পর্যায়ে নিয়ে আসব। সেটা আমরা করতে পেরেছি বলেই আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের যে কর্মসূচি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি), সেটাও যেমন আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি, সেই সঙ্গে আমাদের নিজেদের কর্মসূচি বাংলাদেশকে ঘিরে অর্থাৎ ২০৪১ সাল নাগাদ কেমন বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই সেই পরিকল্পনাও আমরা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। সেই সঙ্গে ডেল্টা প্ল্যান করেছি। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং আশু করণীয় নির্ধারণ করে সেভাবে আমরা কাজ করেছি। যার সুফল এখন দেশের মানুষ পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে দলের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Suchana Community TV
themebazsuchana231231