শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাসের দুর্বল হওয়ার প্রমাণ নেই: ডব্লিউএইচও

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০
  • ১৯৯ Time View
ডব্লিউএইচও-এর এপিডিমিওলজিস্ট মারিয়া ফন কেরকোভে, ছবি: রয়টার্স

নতুন করোনাভাইরাস ‘শক্তি হারাচ্ছে’ বলে ইতালির এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের দাবির পেছনে সহায়ক কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ এবং একাধিক বিজ্ঞানী।

করোনাভাইরাস মহামারীতে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি ভোগা উত্তরাঞ্চলের লম্বার্ডির মিলান শহরের সান রাফায়েলে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের প্রধান আলবের্তো জাঙ্গরিল্লো রোববার ইতালির গণমাধ্যমগুলোতে দাবি করেছিলেন, বাস্তবে শুরুর দিকের সেই করোনাভাইরাস এখন ‘ক্লিনিকালি’ আর নেই।

তবে ডব্লিউএইচও -এর এপিডিমিওলজিস্ট মারিয়া ফন কেরকোভে এবং আরও কয়েকজন ভাইরাস ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ সোমবার বলেছেন, জাঙ্গরিল্লোর মন্তব্যগুলো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়।

তারা বলেন, সংক্রমণের ধরণে অথবা রোগের তীব্রতার দিক থেকে নতুন করোনাভাইরাস উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে – এমনটি বলার মত কোনো উপাত্ত এখনও মেলেনি।

ফন কেরকোভে জেনিভায় সাংবাদিকদের বলেন, “সংক্রমণের সক্ষমতার দিক থেকে এর (ভাইরাস) কোনো পরিবর্তিত হয়নি। তীব্রতার দিক থেকেও এটি বদলায়নি।”

ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে এর পরিবর্তন এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তবে নতুন এই করোনাভাইরাসের শক্তি কমার কোনো লক্ষণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা দেখছেন না।

কোভিড-১৯ মহামারীতে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন, এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ।

লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের সংক্রামক রোগের অধ্যাপক মার্টিন হিবার্ড বলেন, কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী করোনাভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনগুলো বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ যে গবেষণাগুলো এ পর্যন্ত হয়েছে, তাতে এমন কিছু পাওয়া যায়নি, যাতে বলা যায় যে এটি কোনো দিক দিয়ে দুর্বল হয়েছে বা এখন তা ‘কম মারাত্মক’।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, “৩৫ হাজারের বেশি ভাইরাসের জিনোমের উপাত্ত ঘেটে এখন পর্যন্ত তীব্রতার পার্থক্যের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”

ইতালিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসাবে সুপরিচিত জাঙ্গরিল্লো বলছেন, তার সহকর্মী, মাস্সিমো ক্লেমেন্তি পরিচালিত একটি গবেষণা তার মন্তব্যকে সমর্থন করে। আগামী সপ্তাহে সেই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আমরা কখনোই বলিনি ভাইরাসটি পরিবর্তিত হয়েছে। আমরা বলেছিলাম, ভাইরাস এবং সংক্রমিতদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া নিশ্চিতভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।”

জাঙ্গরিল্লোর মতে, এটি ভাইরাসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে হতে পারে, যা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। অথবা সংক্রমিতদের আলাদা বৈশিষ্ট্যের কারণেও তা হতে পারে।

সান রাফায়েলে হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি এবং ভাইরোলজি পরীক্ষাগারের পরিচালক ক্লেমেন্তি তার গবেষণায় মিলানের ওই হাসপাতালের কোভিড-১৯ রোগীদের নমুনা থেকে মার্চ মাসে সংগ্রহ করা ভাইরাসের নমুনার সঙ্গে মে মাসের নমুনার তুলনা করেছেন।

জাঙ্গরিল্লো বলেন, “ফলাফলটি দ্ব্যর্থহীন ছিল – গত মাসে ভর্তি হওয়া রোগীদের তুলনায় মার্চ মাসে ভর্তি হওয়া রোগীদের ভাইরাল লোডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে।”

কিন্তু গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ভাইরাস রিসার্চের অস্কার ম্যাকলিন বলেন, আগের বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলোর কিছুই ভাইরাসটির দুর্বল হয়ে পড়ার দাবি সমর্থন করে না। আবার জেনেটিক দিক বিচার করেও এটি যুক্তিগ্রাহ্য বলে মনে হচ্ছে না।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়েক ফরেস্ট ব্যাপটিস্ট মেডিকেল সেন্টার, জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থওয়েল হেলথের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা বলছেন, তারাও এমন কোনো প্রমাণ পাননি যাতে বলা যায় ভাইরাসটি বদলে গেছে।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য অধ্যাপক লিয়ানা ওয়েন বলেন, “ইতালীয় চিকিৎসকের পরামর্শটি সম্ভবত বিপজ্জনক, কারণ কোনও প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 “করোনাভাইরাসে পরিবর্তন হয়েছে এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এটি একটি খুবই সংক্রামক রোগ। আমাদের আগের মতই সতর্ক থাকা দরকার।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Suchana Community TV
themebazsuchana231231